ঢাকা, বাংলাদেশ | ০৩ ডিসেম্বর ২০২০, বৃহঃস্পতিবার

এটিএমে লেনদেন ঝুঁকিমুক্ত করতে ৩ নির্দেশনা

অর্থবার্তা ডেস্ক:

| প্রকাশিত হয়েছে: February ১৪, ২০১৬: ১৯ টা ৩৬ মিনিটে

লেনদেন নিরাপদ ও ঝুুঁকিমুক্ত করতে এটিএম বুথগুলোতে এন্ট্রি স্ক্যামিং ডিভাইস স্থাপন, নিয়মিত ভিত্তিতে ভিডিও ফুটেজ পর্যবেক্ষণ এবং এটিএম বুথে কোন ব্যক্তি যাতে নতুন যন্ত্র স্থাপন ও মেরামত করতে না পারে সে জন্য ব্যাংকগুলোকে নির্দেশনা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। একই সঙ্গে এটিএম বুথ থেকে টাকা চুরির ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকদের টাকা ফেরত প্রদান করার জন্য ব্যাংকের দায় চিহ্নিত করার বিষয়ে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণ করছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক বলছে, এটিএম বুথে স্ক্যামিং ডিভাইস এবং ভিডিও ক্যামেরা স্থাপনের মাধ্যমে গ্রহকের কার্ডের তথ্য ও পিন নম্বর সংগ্রহ করে ডুবলিকেট কার্ড বানিয়ে জালিয়াতির ঘটনা ঘটেছে। ৬টি এটিএম বুথে এ ধরনের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনা পর শনিবারই সংশ্লিস্ট ব্যাংকসমূহকে সংক্ষুব্ধ গ্রাহকদের বিবরণী প্রেরণ করা হয়েছে। গত ৭ ফেব্রুয়ারী হতে এ পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের যে সমস্ত ক্রেডিট/ডেবিট কার্ডের ডাটা জালিয়াতি হয়েছে তার তালিকা তৈরী করে গ্রাহকদের অবহিতকরণ, কার্ড বাতিল এবং তৎপরিবর্তে সম্পূর্ন নতুন কার্ড ইস্যুর নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিদর্শন দল সংশ্লিস্ট ব্যাংক এবং চিহ্নিত এটিএম বুথসমূহ পরদর্শন করছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র শুভংকর সাহা বলেন, ‘এটিএম বুথ বন্ধ রাখতে আমরা এখন পর্যন্ত কোনো নির্দেশনা দেইনি। ইবিএলের ঘটনা তদন্ত করে আমরা জানতে পেরেছি তিন ব্যাংকের ছয়টি এটিএম বুথে স্কিমিং মেশিন লাগিয়ে বেশ কিছু কার্ডের ডাটা সংগ্রহ করা হয়েছে। এরপর ওই ডাটা দিয়ে কার্ড ক্লোনিং করা হয়েছে। কিন্তু এজন্য তো ৮৫ লাখ কার্ড ব্যবহারকারীকে ভোগান্তিতে ফেলা যাবে না। এজন্য পূর্বের মতোই এটিএম ও অন্যান্য লেনদেন সার্বক্ষণিক চালু রাখতে হবে। কেউ যদি বন্ধ করে তবে তা আমরা খতিয়ে দেখবো। তিনি আরো বলেন, ‘আমরা ওই ছয় বুথে স্কিমিং মেশির লাগানো অবস্থায় যেসব কার্ড ব্যবহার হয়েছিল সেই গ্রাহকদের জানিয়ে ডিঅ্যাক্টিভেট করার পরামর্শ দিয়েছে। একইসাথে তাদের নতুন কার্ড সংগ্রহ করতে বলা হয়েছে।’
বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে আরো জানানো হয়, ২০১৩ সালের ৫ সেপ্টেম্বও এক সার্কুলারে দেশের সকল তফসিলী ব্যাংককে এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধের জন্য কার্যক্রম গ্রহণের সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা প্রদান করা হয়। এতে এটিএম বুথে সিকিউরিটি গার্ডের সার্বক্ষণিক পাহারা নিশ্চিতকরণ এবং এটিএম বুথে কোন ব্যক্তি/ব্যক্তিবর্গ কোন ধরনের নতুন যন্ত্র স্থাপন/মেরামত করতে আসলে বুথে কর্মরত সিকিউরিটি গার্ড কর্তৃক ব্যাংকের ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে ফোন করে ঐ ব্যক্তির পরিচয় নিশ্চিতকরণের নির্দেশনা প্রদান করা হয়।

গত শুক্রবার ইস্টার্ন ব্যাংক লিমিটেডের (ইবিএল) এক গ্রাহকের অ্যাকাউন্ট থেকে অন্য ব্যাংকের এটিএম ব্যবহার করে কৌশলে টাকা তুলে নেয় দুর্বৃত্তরা। পরে আরো জানা যায়, অন্তত ২১ জন গ্রাহকের অ্যাকাউন্ট থেকে একইভাবে আনুমানিক ১০ লাখ টাকা তুলে নেয়া হয়েছে। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর ইবিএলসহ একাধিক ব্যাংক তাদের এটিএম সেবা বন্ধ রাখে। অনেক ব্যাংক সেবা বন্ধ না করলেও এটিএমে টাকার হারও কমিয়ে আনে। এতে এটিএম থেকে টাকা উত্তোলনে ভোগান্তিতে পড়তে হয় সাধারণ গ্রাহকদের।

Print Friendly, PDF & Email