ঢাকা, বাংলাদেশ | ০৩ ডিসেম্বর ২০২০, বৃহঃস্পতিবার

বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর নিয়োগে যোগ্যতার শর্ত শিথিল

অর্থবার্তা ডেস্ক:

| প্রকাশিত হয়েছে: July ২৬, ২০১৬: ১১ টা ১১ মিনিটে

বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর (ডিজি) নিয়োগে প্রথম দফায় ব্যর্থ হয়ে সরকার এবার প্রার্থীদের যোগ্যতার শর্ত শিথিল করেছে। শিক্ষাগত ও চাকরির অভিজ্ঞতা, এ দুই ক্ষেত্রে আগের চেয়ে শর্ত শিথিল করে নতুন বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে। দৈনিক পত্রিকা এবং অর্থ মন্ত্রণালয়ের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের ওয়েবসাইটে এ নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়।

নতুন বিজ্ঞপ্তিতে শিক্ষাগত যোগ্যতার শর্ত শিথিল করে বলা হয়েছে, শুধু স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারীও ডিজি পদে আবেদন করতে পারবেন। আগে আবেদনকারীদের শিক্ষাগত যোগ্যতা হিসেবে সম্মানসহ (অনার্স) স্নাতকোত্তর ডিগ্রি বাধ্যতামূলক ছিল। এখন সেখানে ‘সম্মানসহ’ শর্তটি বাদ দেওয়া হয়েছে। ফলে সাধারণ ডিগ্রি পাস করে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি নিয়েছেন এমন ব্যক্তিরাও আবেদন করতে পারবেন।

একইভাবে অভিজ্ঞতার শর্তও শিথিল করা হয়েছে নতুন বিজ্ঞপ্তিতে। সেখানে বলা হয়েছে, শুধু সরকারি চাকরি করার অভিজ্ঞতা থাকলেও ডিজি পদে আবেদন করা যাবে। আগের দফায় আগ্রহী প্রার্থীদের অভিজ্ঞতা হিসেবে দেশি-বিদেশি কেন্দ্রীয় ব্যাংক, বাণিজ্যিক ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান অথবা যেকোনো নিয়ন্ত্রক সংস্থায় ২৫ বছর এবং শীর্ষ পদে কয়েক বছরের কাজের অভিজ্ঞতা চাওয়া হয়েছিল। নতুন বিজ্ঞপ্তিতে আওতাটা আরও বাড়ানো হলো।

নতুন বিজ্ঞপ্তিতে প্রার্থীদের বয়সের বিষয়ে বলা হয়েছে, ১ জুলাই তারিখে যাঁদের বয়স সর্বোচ্চ ৬০ বছর হয়েছে, তাঁরা আবেদন করতে পারবেন। তবে ৫০ বছরের কম বয়সী ব্যক্তিরা ডিজি পদে আবেদন করতে পারবেন না। আগের দফায় সর্বনিম্ন বয়সসীমার বিষয়টি উল্লেখ ছিল না।

এদিকে এবারের ডিজি নিয়োগের বিজ্ঞপ্তিটি প্রচার করা হয়েছে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের উপসচিব রিজওয়ানুল হুদার স্বাক্ষরে। আগের দফায় দুই ধাপে বিজ্ঞপ্তি প্রচার করা হয়েছিল একই বিভাগের অতিরিক্ত সচিব গকুল চাঁদ দাসের স্বাক্ষরে, যিনি ডিজি নিয়োগে সরকার গঠিত অনুসন্ধান (সার্চ) কমিটির সদস্যসচিব। এবার এসে বিজ্ঞপ্তিদাতা বদলে যাওয়ায় শেষ পর্যন্ত নিয়োগের পুরো দায়িত্ব সার্চ কমিটির হাতে থাকছে কি না, তা নিয়েও খানিকটা শঙ্কা দেখা দিয়েছে।

জানা গেছে, গকুল চাঁদ দাস যুক্তরাষ্ট্র থেকে দেশে ফিরে ১৮ জুলাই থেকে অফিস করছেন। আর পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়েছে ২০ জুলাই।

গত ফেব্রুয়ারিতে রিজার্ভের ১০ কোটি ১০ লাখ ডলার চুরির ঘটনায় ১৫ মার্চ পদত্যাগ করেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আতিউর রহমান। একই ঘটনায় সরকার বাংলাদেশ ব্যাংকের দুই ডিজি আবুল কাসেম ও নাজনীন সুলতানাকে সরিয়ে দেয়। তখন থেকেই ডেপুটি গভর্নরের দুটি পদ খালি রয়েছে।

গত ১৬ মার্চ বাংলাদেশ ব্যাংকে ডিজি নিয়োগের জন্য পল্লী-কর্মসহায়ক ফাউন্ডেশনের (পিকেএসএফ) চেয়ারম্যান কাজী খলীকুজ্জমান আহমদকে প্রধান করে সার্চ কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন গভর্নর ফজলে কবির (তখনো তিনি গভর্নর হননি), অগ্রণী ব্যাংকের চেয়ারম্যান জায়েদ বখ্ত এবং বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) মহাপরিচালক কে এ এস মুরশিদ।

প্রথম দফায় এ পদে যাঁরা আবেদন করেছিলেন তাঁদের কেউ কেউ বলছেন, ডিজি নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি নিয়ে শুরু থেকেই অপরিপক্বতার পরিচয় দিয়েছে সরকার। একটি বাণিজ্যিক ব্যাংকের চেয়ারম্যানকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর নিয়োগের সার্চ কমিটিতে কোন যুক্তিতে রাখা হয়েছে, তা বোধগম্য নয়।

সার্চ কমিটি গঠনের পর ২৮ মার্চ একবার বিজ্ঞপ্তি দিয়ে ডিজি পদে আবেদনের জন্য দেশ-বিদেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক, বাণিজ্যিক ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ পর্যায়ের পদে ২৫ বছরের কাজের অভিজ্ঞতা চাওয়া হয়। যেহেতু শীর্ষ পদে এত বছরের অভিজ্ঞতা অবাস্তব, তাই ৩০ মার্চ তা সংশোধন করে আবার বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। সেখানে বলা হয়, শীর্ষ পদে কয়েক বছরের কাজের অভিজ্ঞতা থাকলেই চলবে।

আগের মতো এবারের বিজ্ঞপ্তিতেও তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ ও অভিজ্ঞতাকে অতিরিক্ত যোগ্যতা হিসেবে বিবেচনা করার কথা বলা হয়েছে। তবে বলা হয়, এবার সংক্ষিপ্ত তালিকা করে মৌখিক পরীক্ষায় ডাকা হবে।

আবেদন গ্রহণ, প্রার্থী বাছাই, প্রাথমিক তালিকা তৈরি এবং মৌখিক পরীক্ষা গ্রহণ শেষে গত মে মাসে সার্চ কমিটি তিনজনের নামের তালিকা করলেও সরকার তা গ্রহণ করেনি। তাঁদের দুজনের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন এবং সামরিক গোয়েন্দা সংস্থার অভিযোগ থাকায় শেষ পর্যন্ত নিয়োগ দেওয়া হয়নি বলে জানা গেছে।

কাজী খলীকুজ্জমান আহমদের নেতৃত্বাধীন সার্চ কমিটি ২০১১ সালেও বাংলাদেশ ব্যাংকের এক নির্বাহী পরিচালককে ডেপুটি গভর্নর পদে নিয়োগের সুপারিশ করেছিল, যাঁর বিরুদ্ধে সংস্থাটির সহকারী পরিচালকদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার সময় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নামে কুৎসা রটানোর অভিযোগ রয়েছে। এ কারণে তালিকায় প্রথম থাকা সত্ত্বেও ওই নির্বাহী পরিচালক ডিজি হতে পারেননি।

Print Friendly, PDF & Email