ঢাকা, বাংলাদেশ | ০৩ ডিসেম্বর ২০২০, বৃহঃস্পতিবার

এনএফসি প্রযুক্তিনির্ভর কার্ডের লেনদেন সীমা নির্ধারণ

অর্থবার্তা ডেস্ক

| প্রকাশিত হয়েছে: July ১২, ২০১৮: ১৯ টা ৩৫ মিনিটে

নেয়ার ফিল্ড কমিউনিকেশন (এনএফসি) প্রযুক্তির মাধ্যমে সংঘটিত ক্রেডিট কার্ডভিত্তিক লেনদেনের সীমা নির্ধারণ করে দিলো বাংলাদেশ ব্যাংক। এথন থেকে এ প্রযুক্তির ক্রেডিট কার্ডে লেনদেনের সর্বোচ্চ সীমা হবে ৩ হাজার টাকা। একইসঙ্গে এ সীমার মধ্যে লেনদেনের জন্য এ কার্ডে পারসনাল আইডেন্টিফিকেশন নম্বর (পিন) ও টু ফেক্টর অথেনটিকেশন (২এফএ) ব্যবহারের বাধ্যবাধকতা শিথিল করা হয়েছে। তবে এসএমএস অ্যালার্ট সার্ভিসের মাধ্যমে এ ধরনের প্রতিটি লেনদেনের তথ্য তাৎক্ষনিকভাবে গ্রাহককে অবহিত করতে হবে। বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ ব্যাংকের পেমেন্ট সিস্টেমস বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত সার্কুলার জারি করা হয়েছে; যা দেশের সব তফসিলী ব্যাংকের প্রধান নির্বাহীদের কাছে পাঠানো হয়েছে।

সার্কুলারে বলা হয়, তথ্য প্রযুক্তির বিকাশের সাথে সাথে দেশে ইলেক্ট্রনিক ব্যাংকিং সেবার উপর নির্ভরশীলতা তথা কার্ডভিত্তিক লেনদেন ক্রমান্বয়ে গ্রাহকের নিকট জনপ্রিয় হচ্ছে। ইলেক্ট্রনিক পেমেন্ট ব্যবস্থার এই অগ্রগতির ধারা অব্যাহ রাখতে জনসাধারনকে ইলেক্টনিক পেমেন্ট পদ্ধতি ব্যবহারে অধিকতর উদ্ধুদ্ধকরনের পাশাপাশি গ্রাহক স্বার্থ সংরক্ষণ, নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, ঝুঁকি হ্রাস ও গ্রাহক সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষে কার্ডের মাধ্যমে এনএফসি প্রযুক্তিতে কন্টাক্টলেস পেমেন্ট সার্ভিস দ্বারা সংঘটিত ইলেক্টনিক লেনদেনের নিরাপত্তা জোরদার এবং এর সুশৃংখল ও যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিতকরণসহ এ ধরনের কার্ডের মাধ্যমে প্রতিটি লেনদেনের সর্বোচ্চ সীমা নির্ধারণসহ পারসনাল আইডেন্টিফিকেশন নম্বর (পিন) ও টু ফেক্টর অথেনটিকেশন (২এফএ) এর বাধ্যবাধকতা পুনর্বিবেচনা করা হয়েছে। এরই প্রেক্ষিতে ইতোপূর্বে জারিকৃত এ সংক্রান্ত সার্কুলার ও অন্যান্য নিদেশনসমূহ অপরিবর্তিত রেখে এ সার্কুলার জারি করা হলো।


সার্কুলার অনুযায়ী, দেশের অভ্যন্তরে সকল ধরনের মার্চেন্ট অবস্থানে এ প্রযুক্তির লেনদেনের জন্য এ সীমা প্রযোজ্য হবে। তবে এ সীমার বাইরে লেনদেনে কন্টাক্ট এবং পিন ও টু-এফএ ভিক্তিক হবে। গ্রাহকের পুর্বানুমতি ব্যতিত গ্রাহকের অনুকূলে ইস্যুকৃত এনএফসি প্রযুক্তিনির্ভর কার্ডে লেনদেন কার্যকর করা যাবে না। গ্রাহক তার পছন্দ অনুযায়ী এনএফসি এর সীমার নীচে লেনদেনও কন্টাক্ট এবং পিন ও টু-এফএ এর মাধ্যমে লেনদেন করতে পারবে। এছাড়া এ ধরনের লেনদেন সম্পাদনের ক্ষেত্রে গ্রাহকে ইস্যুয়িং এবং অ্যাকুইরিং উভয় ব্যাংকই পূর্ন সহযোগিতা করবে। অর্থাৎ কোনভাবে গ্রাহককে এনএফসি প্রযুক্তিতে লেনদেনে বাধ্য করা যাবে না।

সার্কুলারে আরো বলা হয়, এনএফসি প্রযুক্তি সম্বলিত কাডৃ ইস্যুকারী ব্যাংক পছন্দমত তার নিজস্ব কার্ড গ্রাহকদের এনএফসি প্রযুক্তির লেনদেনের সীমা উল্লেখিত সর্বোচ্চ সীমার নীচেও নির্ধারণ করতে পারবে। এনএফসি কার্ড ইস্যুকারী ব্যাংকসমূহ গ্রাহক সচেতনতার লক্ষে এনএফসি প্রযুক্তিগত মকল কার্ড, মার্চেন্ট অবস্থান এবং পয়েন্ট অব সেল মেশিনে দৃশ্যমান ‘কন্টাক্টলেস লোগো’ প্রদর্শনের ব্যবস্থা করবে; যাতে সহজেই এনএফসি প্রযুক্তিগত কার্ড অন্য কার্ড থেকে পৃথক করা সম্ভব হয় এবং এ ধরনের কার্ডের মাধ্যমে লেনদেন গ্রহনকারী মার্চেন্টকে সহজেই চিহ্নিত করা য্ায়। এনএফসি কার্ডের বৈশিষ্ট্য, নিরাপদ ব্যবহার বিধি, লেনদেনের সীমা এ্ং ঝুঁকি সম্পর্কে গ্রাহককে অবহিত করতে হবে। এছাড়া ব্যাংকসমূহের হারিয়ে যাওয়া ও চুরি হওয়া এনএফসি প্রযুক্তিগত কার্ড সম্পর্কে গ্রাহকের নিকট হতে একাধিক উপায়ে তথ্য ও অভিযোগ গ্রহনের ব্যবস্থা রাখতে হবে। একইসঙ্গে গ্রাহকের নিকট হতে যে কোন ধরনের অভিযোগ প্রাপ্তির সঙ্গে সঙ্গে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

Print Friendly, PDF & Email