ঢাকা, বাংলাদেশ | ৩০ অক্টোবর ২০২০, শুক্রবার

সাত মাসেই লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়েছে সঞ্চয়পত্র

নিজস্ব প্রতিবেদক

| প্রকাশিত হয়েছে: March ১০, ২০১৯: ১৯ টা ২১ মিনিটে

 

ব্যাংকিং খাতে লাভের হার কম হওয়ায় সঞ্চয়পত্রের দিকেই বেশি ঝুঁকছেন সাধারণ মানুষ। ফলে মাত্র সাত মাসেই বিক্রয়ের নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়েছে সঞ্চয়পত্র। ২০১৯ সালের জানুয়ারি শেষে ৩০ হাজার ৯৯৬ কোটি টাকার সঞ্চয়পত্র বিক্রি হয়েছে। যা নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৪ হাজার ৭৯৯ কোটি টাকা বেশি।

জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী চলতি ২০১৮-১৯ অর্থবছরে মোট লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ২৬ হাজার ১৯৭ কোটি টাকা। কিন্তু মাত্র সাত মাসেই অতিক্রম করে গেছে সেই লক্ষ্যমাত্রা। হিসাব করে দেখা গেছে আলোচ্য সময়ে ১১৮ শতাংশ সঞ্চয়পত্র বিক্রি হয়েছে।

এবিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. সালেহ উদ্দিন আহমেদ বলেন, সঞ্চয়পত্রে বিক্রয় বৃদ্ধি কোনো উদ্বেগের বিষয় নয়। কারণ এখানে প্রচুর নারী, নিম্ন ও মধ্যবিত্তরা বিনিয়োগ করেন। তবে এখানে যেন বেশি আয়ের ব্যক্তিরা বিনিয়োগ করতে না পারে সেদিকে লক্ষ রাখা উচিৎ।

সরকার বাজেটের ঘাটতি পূরণের লক্ষ্যে ব্যাংকিং খাত থেকে টাকা নেওয়ার কথা বললেও অভ্যন্তরীণ ঋণের প্রধান সোর্স হয়ে পড়েছে সঞ্চয়পত্র বিক্রি থেকে সংগৃহীত অর্থ। জুলাই-জানুয়ারি সময়ে ৩০ হাজার ৯৯৬ কোটি ৩৯ লাখ টাকার নিট সঞ্চয়পত্র বিক্রি হয়েছে। অথচ এবারের বাজেটে সরকার সঞ্চয়পত্র থেকে ২৬ হাজার ১৯৭ কোটি টাকা সংগ্রহের লক্ষ্য ঠিক করেছিল।

আলোচ্য সময়ে (জুলাই-জানুয়ারি) আগের কেনা সঞ্চয়পত্রের মূল ও সুদ পরিশোধ বাবদ ব্যয় হয়েছে ২২ হাজার ২৬০ কোটি টাকা। সুদ বাবদ পরিশোধ করা হয় ১৪ হাজার ১১১ কোটি টাকা।

এবিষয়ে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) এর বিশেষ ফেলো ড. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, বাজেট ঘাটতি মেটাতে বাধ্য হয়ে সঞ্চয়পত্র থেকে ঋণ নেয় সরকার। সম্প্রতি জাতীয় রাজস্ব বোর্ড চাহিদা অনুযায়ী রাজস্ব আদায় করতে না পারায় সঞ্চয়পত্রে চাপ সৃষ্টি হয়েছে। এছাড়া সঞ্চয়পত্রকে সরকারের জনপ্রিয়তা লাভের আরও একটি মাধ্যম বলেও মনে করেন তিনি।

টার্গেট গ্রুপ ছাড়াও অনেক উচ্চবিত্ত লোক ও প্রতিষ্ঠান এখানে বিনিয়োগ করছেন। যা কোনোভাবেই কাম্য নয়। সঞ্চয়পত্রের বিনিয়োগ নিম্ন ও মধ্যবিত্তদের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখতে জাতীয় পরিচয়পত্রসহ জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সাথে সাহয্য নেওয়ার পরামর্শ দেন এই অর্থনীতিবিদ।

প্রয়োজনে উচ্চবিত্তদের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে বন্ড ইস্যু করা হোক। তারপরেও যেন সঞ্চয়পত্রের টার্গেটগ্রুপ বঞ্চিত না হয়। এজন্য উপযুক্ত একটি নীতিমালা ও যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করা দরকার বলে মন্তব্য করেন তিনি।

Print Friendly, PDF & Email